বাংলা মধ্যম

আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?

অপশনসমূহ (Options)
সঠিক উত্তর চিহ্নিত
💡
ব্যাখ্যা ও সমাধান

আহমদ শরীফ ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক ও গবেষক। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'চণ্ডীদাস' নামে একাধিক কবির অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলে আসছে, যা 'চণ্ডীদাস সমস্যা' নামে পরিচিত। আহমদ শরীফ তাঁর গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, 'চণ্ডীদাস' নামে মোট তিনজন কবি ছিলেন।

তিনি এই তিনজনকে চিহ্নিত করেন:

  • বড়ু চণ্ডীদাস: 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা।
  • দীন চণ্ডীদাস: পদাবলীর রচয়িতা, যার পদে সহজিয়া মতবাদের প্রভাব দেখা যায়।
  • দ্বিজ চণ্ডীদাস: পদাবলীর রচয়িতা, যার পদে 'দ্বিজ চণ্ডীদাস' ভণিতা পাওয়া যায়।

বিভিন্ন চণ্ডীদাসের রচনার ভাষা, ভাব ও শৈলীর ভিন্নতা বিশ্লেষণ করে আহমদ শরীফ এই তিনজনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। তাই সঠিক উত্তর হলো 'খ' অর্থাৎ ৩ জন।

💡 মনে রাখার টেকনিক / শর্টকাট: আহমদ শরীফ ছিলেন তিন চণ্ডীদাসের শরীফ (সরিফ = সঠিক) গবেষক। (শরীফ = সঠিক, তিন = সংখ্যা)
📌
পরীক্ষার বিশেষ নোট ও প্রেক্ষাপট:

চণ্ডীদাস সমস্যা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'চণ্ডীদাস সমস্যা' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়। 'চণ্ডীদাস' ভণিতাযুক্ত অসংখ্য পদাবলী পাওয়া গেলেও, এই নামে ঠিক কতজন কবি ছিলেন তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

  • 'চণ্ডীদাস সমস্যা' কী? 'চণ্ডীদাস' নামে একাধিক কবির অস্তিত্ব এবং তাদের রচনার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে যে বিতর্ক, তাই 'চণ্ডীদাস সমস্যা' নামে পরিচিত।
  • বিভিন্ন গবেষকের মত:
    • এক চণ্ডীদাস মতবাদ: একসময় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুকুমার সেন (প্রাথমিকভাবে) প্রমুখ মনে করতেন যে, 'চণ্ডীদাস' নামে একজনই কবি ছিলেন। তবে পরবর্তীতে সুকুমার সেন তার মত পরিবর্তন করেন।
    • একাধিক চণ্ডীদাস মতবাদ: বর্তমানে অধিকাংশ গবেষকই একাধিক চণ্ডীদাসের অস্তিত্বে বিশ্বাসী।
    • আহমদ শরীফের মত: তিনি ৩ জন চণ্ডীদাসের অস্তিত্বের কথা বলেছেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস।
    • সুকুমার সেনের মত: তিনি ৪ জন চণ্ডীদাসের কথা বলেছেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস এবং এক চণ্ডীদাস। (যদিও 'এক চণ্ডীদাস'কে তিনি স্বতন্ত্র কবি হিসেবে চিহ্নিত করেননি, বরং অন্য তিনজনের মধ্যে একজন হিসেবেই দেখেছেন। তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য 'সুকুমার সেনের মতে ৪ জন' তথ্যটি প্রচলিত।)
    • অন্যান্য গবেষক: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. বিমানবিহারী মজুমদার প্রমুখও একাধিক চণ্ডীদাসের অস্তিত্বে বিশ্বাসী।
  • প্রধান চণ্ডীদাসগণ ও তাদের রচনা:
    • বড়ু চণ্ডীদাস:
      • সময়কাল: আনুমানিক চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ ভাগ বা পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ।
      • প্রধান কাব্য: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এটি ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
      • বৈশিষ্ট্য: এটি রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য। এর ভাষা প্রাচীন বাংলা ভাষার নিদর্শন।
    • দীন চণ্ডীদাস:
      • সময়কাল: আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দী।
      • প্রধান রচনা: পদাবলী।
      • বৈশিষ্ট্য: তার পদে সহজিয়া মতবাদের প্রভাব দেখা যায়। তিনি রাধাকৃষ্ণের প্রেমকে মানব-মানবীর প্রেমের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
    • দ্বিজ চণ্ডীদাস:
      • সময়কাল: আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দী।
      • প্রধান রচনা: পদাবলী।
      • বৈশিষ্ট্য: তার পদে 'দ্বিজ চণ্ডীদাস' ভণিতা পাওয়া যায়। তার পদাবলীতে বৈষ্ণব ভক্তির গভীরতা লক্ষণীয়।
    • এক চণ্ডীদাস: সুকুমার সেনের মতে, ইনি সম্ভবত অন্য কোনো চণ্ডীদাসেরই পরিবর্তিত নাম বা ভণিতা।
  • গুরুত্ব: চণ্ডীদাসগণ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাদের পদাবলী বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং পরবর্তী কবিদের অনুপ্রাণিত করেছে।